বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪
একট রঙিন চাদর...
© শাহানী রমেশ।
অভিমানী রোদ। ফাগুনের সকাল। এই রোদ দুপুরে একটু চোখ রাঙালেও বিকেলে আবার অভিমান করে।
জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন গ্রাম থেকে বহু লোক শহরে আসে। এই তাগিদে শহর থেকে গ্রামেও যেতে হয় অনেককে। অনেকের মধ্যে আমিও একজন।
শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমরা কয়েক জন প্রতিদিন অফিস করতে যাই পাশের কয়েকটি গ্রামে। একই গাড়িতে যাওয়ার কারণে সকলের সাথে বাক্য বিনিময় না হলেও দৃষ্টি বিনিময় হয়- কারও কারও ভাব বিনিময়।
ঋতু বৈচিত্র্যের এই বাংলাদেশে বরাবরের মত এবারও ফাগুন এসেছে নব-বঁধূ বেশে। ফাগুন শুরুর রোদের অভিমান মনের সাথে সাথে শরীরকেও শীতল করে। শাড়ির সাথে সাথে নারীরা এসময় চাদরও জড়াতে বাধ্য হয় শরীরে। কয়েক জন নারীর এই শাড়ি আর চাদর খানিকটা সাদা-সিধে হওয়ার কারণ, তারা শিক্ষকতা পেশায় জড়িত।
স্ত্রী-বিয়োগের পর আমার জীবনটাও এরকম সাদা-সিধেভাবে চলছিল।
সহযাত্রীদের সাথে দৃষ্টি আর ভাবের বিনিময় সঙ্গে ফাগুনের অভিমানী রোদের রঙ- সব মিলিয়ে জীবনটা রঙিন হওয়ার উপকূলে উপনীত হতে চায়। সাদা-সিধে শাড়ি-চাদর রঙের ছটা ছড়িয়ে দিতে চায় নয়নে-পরাণে।
একদিন বেশ সাজু-গুজু করে অফিস যাচ্ছি। গাড়িতে উঠতে গিয়ে দরজার হাতলে লেগে জামাটা ছিঁড়ে গেল। ছেঁড়া জামায় অফিস যাওয়া চলে না। বাসায় ফিরে জামা বদলিয়ে অফিস করতে গেলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। কী যে করি! সহসা যাত্রীদের মধ্যে একজন নারী, যিনি শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত- তার চাদর আমার গা'য়ে জড়িয়ে দিলেন। ভাল লাগার আবেগ আর শিহরণে ভরে গেল মন। তবুও মুখে বললাম, আপনার ঠাণ্ডা লাগবে তো! আরও কিছু বলার আগেই এমনভাবে চোখ রাঙিয়ে শাসন করলেন- বাধ্য ছাত্রের মত বসে পড়লাম।
অফিস শেষে বাসায় এসে চাদরটাকে নিয়ে কী করব ভেবে পাচ্ছি না। ধুয়ে ফেরৎ দেওয়া উচিত- ইচ্ছে করছে না। মনে হচ্ছে এই চাদরে তার শরীরের গন্ধ লেগে আছে- যা দীর্ঘদিন শূণ্য থাকা আমার এই ঘরকে পরিপূর্ণ করেছে, করছে।
অনেকদিন দেখা না হওয়ায় তার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। সেই রঙিন চাদর, চাদরে শরীরের গন্ধ- সব।
সবকিছু ভুলে আবার সেই সাদা-সিধে জীবন চলছে স্বাভাবিক, সুন্দরভাবে।
কিছুদিন পর অফিস যাবার পথে সহযাত্রীদের কাছে খবরটা শুনে অন্য ধরণের ধাক্কা খেলাম, গৃহিণী হয়ে চলে গেছেন তিনি অন্যের ঘরে। তার পর অন্য জগতে।
সারাদিন অফিসে কী করেছি জানি না। বাসায় এসে দেখি, আমার ঘর আবার পরিপূর্ণ হয়েছে।
তার শরীরের গন্ধ পাই আজও সেই রঙিন চাদরে।
----------------
২০১৪ মার্চ ০৭
খুলনা, বাংলাদেশ।
সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৪
...তবুও অঙ্গার আত্মার পড়শি
©শাহানী রমেশ
সারা রাত বয়েছে উলঙ্গ ঠাণ্ডা হাওয়া
...তবুও অঙ্গার আত্মার পড়শি।
তোমার ছেড়ে যাওয়া
বাসি-কাপড়ের গন্ধ মন পুড়িয়েছে;
কাঁচা ঘুমের মত হালকা মন
ভিজিয়েছে অভিসপ্ত মাঘি-শিশির
...তবুও অঙ্গার আত্মার পড়শি।
বিশুদ্ধ আগুনের আঁচ
বাঁচিয়েছে শুকনো হৃদ-পত্র;
দেহত্যাগী সে অনল
পবিত্রতা হারায় নি
...তবুও অঙ্গার আত্মার পড়শি।
মরণের আগেই সেরেছে মন
অমৃত সরোবরে স্নান
...তবুও অঙ্গার আত্মার পড়শি।
©শাহানী রমেশ
সারা রাত বয়েছে উলঙ্গ ঠাণ্ডা হাওয়া
...তবুও অঙ্গার আত্মার পড়শি।
তোমার ছেড়ে যাওয়া
বাসি-কাপড়ের গন্ধ মন পুড়িয়েছে;
কাঁচা ঘুমের মত হালকা মন
ভিজিয়েছে অভিসপ্ত মাঘি-শিশির
...তবুও অঙ্গার আত্মার পড়শি।
বিশুদ্ধ আগুনের আঁচ
বাঁচিয়েছে শুকনো হৃদ-পত্র;
দেহত্যাগী সে অনল
পবিত্রতা হারায় নি
...তবুও অঙ্গার আত্মার পড়শি।
মরণের আগেই সেরেছে মন
অমৃত সরোবরে স্নান
...তবুও অঙ্গার আত্মার পড়শি।
লেবেলসমূহ:
...তবুও অঙ্গার আত্মার পড়শি
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)