রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
আয়না
বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৩
চোখের নেশা
চোখের নেশায় ভুল করি...
পড়ে আছে শিউলি মালা
ভেবে বসি ফুলপরি।।
কাজল আঁকা দুটি আঁখি
আঁধার ডেকে আনে।
আলোর ভেলা মুচকি হাসে
শরৎ গগন পানে।
আলো আঁধার সবই আছে
নাই মমতা চোখে।
মায়াবিনী টানে তবু
আমায় স্বপ্নলোকে।
তার ঘাটেতেই স্বপনতরী...
থেমে আছে তবু কেন
ফিরে আসার পথ ধরি।।
শীতলপাটি বোনে যে চোখ
দারুণ খরার দিনে।
বিজলী ঝলক দিয়ে সে কি
নেবে আমায় চিনে।
আগুনঝরা নয়নতারা
ফাগুন খুঁজে মরে।
শ্রাবণ তারে অহঙ্কারে
নজরবন্দী করে।
বাঁধন ছিঁড়ে জলের পরি...
মনে এলো তবু কেন
ভুলে থাকার ভুল করি।।
শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০২৩
কবুতরের পালক
২১ডিসেম্বরের স্নিগ্ধ সকাল। রোদ ঝলমলে আলো। শুক্রবার। ছুটির অলস আবেশ ঘিরে আছে মন। ঘরটা পরিষ্কার করা দরকার, ইচ্ছে করছে না।
গিন্নি মারা যাবার পর ছোট্ট এই বাসাটিতে একাই থাকি। কোনও কাজের লোক নেই; সব আমাকেই করতে হয়। ঘর-ঝাড় আমাকেই দিতে হবে।
ঝাড়ুটা নিয়ে এখনই শুরু করব।
আমার এই বাসার দক্ষিণ দিকটা ফাঁকা। জানালা আছে মোট চারটে। একটা পশ্চিমে; রান্নাঘরের সাথে। একটি পূব দিকে- বড়; এদিকটাও ফাঁকা।
বাকি জানালা দু'টো দক্ষিণ দিকে। দক্ষিণ দিকের জানালা দু'টোর একটি পূব ঘেঁষা অন্যটি পশ্চিম।
আমার বাড়িওয়ালা সৌখিন মানুষ। কবুতর পোষা তার শখ। চারতলা ভবনের ছাদে কবুতরের যাবতীয় কারবার ওনার। আমি থাকি চার তলায়।
আজ সকালে আমার ঘরের দক্ষিণ দিকের পশ্চিম ঘেঁষা জানালা দিয়ে কবুতরের ছোট্ট একটি পালক আমার সামনে এসে পড়লে চমকে উঠি। কবুতরের পালক দেখে কেউ চমকে ওঠে না ঠিকই, আমার চমকে ওঠার অন্য কারণও ছিল।
বিয়ের পরে সংসারের প্রয়োজনে গিন্নি চাকরি ছেড়ে দেয়। প্রথম দিকে দুজনই চাকরি করি। সংসারের যাবতীয় কাজও দু'জনের করা উচিত। কিন্তু 'আমার
পাগলিটি এটা মেনে নিতে পারতেন না'। আমাকে সংসারের কোনও কাজ করতে দিত না। গোপনে আমি নিজের জামা-কাপড় কাচার চেষ্টা করে দেখেছি; কীভাবে যে টের পেয়ে যেত জানি না- আমাকে টেনে এনে বসিয়ে দিত খাটের উপর। হাতে ধরিয়ে দিত এক কাপ চা।
একদিন অমনি করে ঘর ঝাড়ু দিতে গিয়ে কী ঘটেছিল মনে করার চেষ্টা করছি... তখন হঠাৎ সামনে সাদা পালক। সাদা শাড়িতে আমার আত্মার আত্মীয় নাকি কবুতরের পালক- বুঝে উঠতে সময় লাগে।
চমক ভাঙলে বুঝতে পারি, কবুতরের ছোট্ট-সাদা এই পালকটি আমার আত্মার আত্মীয় হয়ে গেছে। এখন এ'কে নিয়ে কী করব ভাবতেই হয়।
ছবির মত বাঁধিয়ে রাখলে কেমন হয়! একটা ছবি তুলে ফেসবুকে দিতে হবে; প্রোফাইল পিকচার করব নাকি... কভার ফোটো। একটা কবিতাও তো লিখে ফেলা দরকার। ঘটনাটা লিখে ফেসবুকের স্ট্যাটাস...আচ্ছা টুইটারের পাসওয়ার্ড তো মনে পড়ছে না। ...এইসব ভাবছি। ঘর ঝাড়ু দিতে দিতে কখন যে কবুতরের ওই পালকটি ফেলে দিয়েছি খেয়াল করি নি। ও মা, ময়লার ঝুড়িটাতেও তো দেখছি না! আমার আত্মার আত্মীয়কে এভাবে ফেলে দিলাম?
ভালই হয়েছে...আমার শাস্তি হওয়া উচিত। আত্মার আত্মীয়কে অবজ্ঞা অবহেলা করলে সে তো পালিয়ে যাবেই। শাস্তি তো পেতেই হবে। হ্যাঁ শাস্তি আমি পেয়েছি, পাচ্ছি। এই একাকীত্বই আমার শাস্তি।
............................................................................
খুলনা, বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৩
শ্রাবণের কৃপাণ
হিংসুটে নীরবতা
ভাঙতে চায় আজ
শ্রাবণের লাজ।
নোংরা প্রলোভনে
বিনা মেঘে সে আজ
ফেলেছে হৃদয়ে বাজ।।
শিউলির দিন শেষ
বকুল অহঙ্কারী
মানস সরোবরে
শেওলা রকমারী।।
হালকা জলধারা
কেড়ে নিতে চায় কাজ
মন শিকারী বাজ।।
বরষার কলতান
কিছু চটুল গান
হয়ে আসে ক্ষত্রিয়ের
ক্ষীয়মাণ কৃপাণ।।
ক্ষয়িষ্ণু দেহে নেই
বেঁচে থাকার সাজ
শিরে মরণের তাজ।।
২০১৪ জুলাই ২৮।
খুলনা, বাংলাদেশ।
শনিবার, ১ জুলাই, ২০২৩
আবার আয়না
আবার আয়না।
জীবনের অর্ধেক দুঃখ হল, ভুল মানুষকে বিশ্বাস করা। বাকি অর্ধেক দুঃখ- ঠিক মানুষকে অবিশ্বাস করা। নিজেকে এখন বেশ দুর্বল মনে হয়, সহজে ভেঙ্গে পড়ি। মিথ্যে বলা রপ্ত হয় নি, সত্য গোপন করি।
আয়নার সামনে দাঁড়ালে- সে বলল, আমিও দুর্বল; সামান্য আঘাতেই ভেঙ্গে পড়ি। তবু যে কোনও পরিস্থিতিতে মিথ্যা বলি না, সত্য দেখিয়ে দিই।
‐---------------
02 July 2021 [FB post]
শুক্রবার, ২৩ জুন, ২০২৩
অভিসারের আয়োজন
যে গ্রামে বৃষ্টি নামে না, মেঘবালিকারা ভেসে বেড়ায় আপন মনে। সন্ধ্যা নামে না, বিকেলের কোমল রোদ; ধূসর বিড়ালের মত ঝিমুনি দেয় ঘরের কোণে। কিশোর কুমারের মনের ময়ূরমহলের মত একটি ঘর বানিয়ে রেখেছি তোমার নামে। সেই গ্রামের কিশোরীরা সব বকুলমালা হাতে তোমার প্রতীক্ষায়, অভিসারের আয়োজনে।
বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০২৩
জীবন নদীর খেলা...
পালের নাও
গাঁয়ের নামটি বেশ কাব্যিক- চুকনগর। এ গাঁয়ের আকেবাঁকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে নানান কবিতা আর গল্প । গ্রামটি অনেক পুরোনো। বুড়িভদ্রা নদীর তীরে এর বাজার। হাট বসে মঙ্গল আর শুক্রবার।
বাদামতলা থেকে একটু উত্তরপশ্চিমে হাঁটার পর ইট বিছানো পথটি নিয়ে যায় দিব্য পল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে। এরপর এই পথ কাঁচা ও পোড়ামাটির- নদীর তীর ঘেঁষে চলে যায় পালপাড়া হয়ে কেশবপুর।
ফুটবল খেলার মাঠ, তেঁতুলতলা পেরিয়ে আসার পর নদীর তীরে আর যে বিষয়টি রাজীবের মন কেড়ে নিত তা হল অর্ধপোড়ো দোতলা বাড়ি। দীর্ঘদিন বসবাসের পর নির্মল স্যার বাড়িটি ছেড়ে অন্যত্র আস্তানা গাঁড়ার পর কিছুদিন খালি পড়ে থাকে। অশোক-পারুল দম্পতি তাদের দুই সন্তান নিয়ে এই বাড়িতেই ওঠে। বড় সন্তান রাজীব চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। মেয়েটির নাম ছোঁয়া- এখনও বিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু করে নি।
গরমের দিন। রাজীবের এখন ঘুড়ি উড়ানোর সময়- বাতাসের বেগ না থাকায় তা পারছে না। পান চিবুতে চিবুতে কাঁথা সেলাই-রত পারুলের আঁচল নিয়ে খেলা করছিল ছোঁয়া। ঘুড়ি না উড়িয়ে বসে থাকা রাজীবের দিকে চোখ যেতেই মনে মনে ঘুড়িটির অধিকার নিয়ে নেয়। দৌড়ে গিয়ে ছো মেরে ঘুড়িটি নিয়ে পালায় ফুটবল খেলার মাঠের দিকে। হাটবার নয় বলে মাঠ পুরো ফাঁকা- ইচ্ছে হলেই যথেচ্ছা দৌড়ের সুগম সুযোগ। অন্য সময় হলে রাজীবও দৌড়ে গিয়ে ঘুড়িটি কেড়ে নিয়ে পিঠের উপর দুম দুম করে দু-ঘা বসিয়ে দিত। ছোঁয়া মায়ের কাছে গিয়ে কান্নাকাটি, গড়াগড়ি শুরু করে দিলে- রাজীবকেই যেতে হত তাকে নিয়ে বাজারে, লজেন্স কিনে দিতে। এখন তা হল না। বাতাসের বেগ না থাকলে ঘুড়ির মূল্য কোথায়! তেঁতুলতলায় মন খারাপ করে বসে; নদীর দিকে তাকিয়ে ভাবছে কী করা যায়। আর একজন কেউ এলে গুটি (মার্বেল) খেলা যেত।
পালপাড়ার দিক থেকে হাড়িকুড়ি বোঝাই নৌকা একটি আসছে ধীরে ধীরে। পাল তোলা থাকলেও হাওয়ার সহযোগিতার অভাবে নাওটি যেন চলতেই চাইছে না। আচ্ছা এই নৌকাগুলো কোথায় যায়! শুনেছে, বুড়িভদ্রা ওদিকে গেছে খর্ণিয়া, ষোলগাতিয়া হয়ে নাকি খুলনাও যাওয়া যায়! ভাবনার মাঝে হঠাৎই ক্লাসের বই-এ পড়া একটি কবিতা ঢুকে পড়ে। যেন তার শৈশবের জীবন যাপনের কথা ভেবেই কবি লিখেছেন,
পালের নাও পালের নাও পান খেয়ে যাও
ঘরে আছে ছোট বোনটি তারে নিয়ে যাও।...
পল্লীকবি জসীম উদ্দীন কবিতা লেখার বীজ সেই দিনই রোপন করে দিয়েছিলেন রাজীবের কোমল অন্তরে।
আজ চব্বিশ বছর পর সেই বুড়িভদ্রা আরও বুড়ি হয়েছে। দখলদারসহ অন্য অনেক অসচেতনার কারণে তার প্রবল জলধারা আজ রূপ নিয়েছে সামান্য জলরেখায়। তেঁতুলগাছটি কবে, কেন কাটা হল সে আক্ষেপ মনের মাঝে লুকিয়ে রেখে রাজীব ভাবে, মানুষের জীবনের কথা বলার মত কবিতা এখন কেউ কি লেখেন! ইট-বালি-পাথরের নগরসভ্যতা কি আমাদের কোমল হৃদয়ের অনুভবেও হানা দিচ্ছে? অনেকেই ভাল লেখেন জানি, তাদের লেখা পাঠ্যক্রমে স্থান পায় না কেন- শুধু কি কর্তৃপক্ষের সুনজরের অভাব- নাকি...! ভাবনার মোড় ঘুরে নিজের দিকে চলে আসে, আমারও তো একক কাব্যগ্রন্থ গোটা দশেক। এর একটা কবিতাও কি কারও জীবনের সাথে মিলে যায়, নাকি ভ্রান্ত সময়ে সাহিত্য নিয়ে বাড়াবাড়ি করছি? অন্য কোনও শিল্পমাধ্যমের আহ্বানে সাড়া দিতে ব্যর্থ হচ্ছি বা পিছে পড়ে যাচ্ছি না তো আমরা!
‐------------------------------------------------------‐---------
21-06-2023
শাহানী রমেশ।
13 হেলাতলা রোড
খুলনা, বাংলাদেশ।
শনিবার, ২০ মে, ২০২৩
ছুটির ফাঁদ
মরণকে ছুটি দিয়ে ভাবলাম, বেঁচে গেছি। এখন তার সকল কাজ আমাকেই করতে হয়।