শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০২৩

কবুতরের পালক

২১ডিসেম্বরের স্নিগ্ধ সকাল। রোদ ঝলমলে আলো। শুক্রবার। ছুটির অলস আবেশ ঘিরে আছে মন। ঘরটা পরিষ্কার করা দরকার, ইচ্ছে করছে না।

গিন্নি মারা যাবার পর ছোট্ট এই বাসাটিতে একাই থাকি। কোনও কাজের লোক নেই; সব আমাকেই করতে হয়। ঘর-ঝাড় আমাকেই দিতে হবে।

ঝাড়ুটা নিয়ে এখনই শুরু করব।


আমার এই বাসার দক্ষিণ দিকটা ফাঁকা। জানালা আছে মোট চারটে। একটা পশ্চিমে; রান্নাঘরের সাথে। একটি পূব দিকে- বড়; এদিকটাও ফাঁকা। 

বাকি জানালা দু'টো দক্ষিণ দিকে। দক্ষিণ দিকের জানালা দু'টোর একটি পূব ঘেঁষা অন্যটি পশ্চিম।


আমার বাড়িওয়ালা সৌখিন মানুষ। কবুতর পোষা তার শখ। চারতলা ভবনের ছাদে কবুতরের যাবতীয় কারবার ওনার। আমি থাকি চার তলায়।

আজ সকালে আমার ঘরের দক্ষিণ দিকের পশ্চিম ঘেঁষা জানালা দিয়ে কবুতরের ছোট্ট একটি পালক আমার সামনে এসে পড়লে চমকে উঠি। কবুতরের পালক দেখে কেউ চমকে ওঠে না ঠিকই, আমার চমকে ওঠার অন্য কারণও ছিল।


বিয়ের পরে সংসারের প্রয়োজনে গিন্নি চাকরি ছেড়ে দেয়। প্রথম দিকে দুজনই চাকরি করি। সংসারের যাবতীয় কাজও দু'জনের করা উচিত। কিন্তু 'আমার

পাগলিটি এটা মেনে নিতে পারতেন না'। আমাকে সংসারের কোনও কাজ করতে দিত না। গোপনে আমি নিজের জামা-কাপড় কাচার চেষ্টা করে দেখেছি; কীভাবে যে টের পেয়ে যেত জানি না- আমাকে টেনে এনে বসিয়ে দিত খাটের উপর। হাতে ধরিয়ে দিত এক কাপ চা।

একদিন অমনি করে ঘর ঝাড়ু দিতে গিয়ে কী ঘটেছিল মনে করার চেষ্টা করছি... তখন হঠাৎ সামনে সাদা পালক। সাদা শাড়িতে আমার আত্মার আত্মীয় নাকি কবুতরের পালক- বুঝে উঠতে সময় লাগে।

চমক ভাঙলে বুঝতে পারি, কবুতরের ছোট্ট-সাদা এই পালকটি আমার আত্মার আত্মীয় হয়ে গেছে। এখন এ'কে নিয়ে কী করব ভাবতেই হয়।

ছবির মত বাঁধিয়ে রাখলে কেমন হয়! একটা ছবি তুলে ফেসবুকে দিতে হবে; প্রোফাইল পিকচার করব নাকি... কভার ফোটো। একটা কবিতাও তো লিখে ফেলা দরকার। ঘটনাটা লিখে ফেসবুকের স্ট্যাটাস...আচ্ছা টুইটারের পাসওয়ার্ড তো মনে পড়ছে না। ...এইসব ভাবছি। ঘর ঝাড়ু দিতে দিতে কখন যে কবুতরের ওই পালকটি ফেলে দিয়েছি খেয়াল করি নি। ও মা, ময়লার ঝুড়িটাতেও তো দেখছি না! আমার আত্মার আত্মীয়কে এভাবে ফেলে দিলাম? 

ভালই হয়েছে...আমার শাস্তি হওয়া উচিত। আত্মার আত্মীয়কে অবজ্ঞা অবহেলা করলে সে তো পালিয়ে যাবেই। শাস্তি তো পেতেই হবে। হ্যাঁ শাস্তি আমি পেয়েছি, পাচ্ছি। এই একাকীত্বই আমার শাস্তি।

............................................................................

খুলনা, বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৩

শ্রাবণের কৃপাণ

হিংসুটে নীরবতা 

ভাঙতে চায় আজ

শ্রাবণের লাজ। 

নোংরা প্রলোভনে 

বিনা মেঘে সে আজ 

ফেলেছে হৃদয়ে বাজ।। 


শিউলির দিন শেষ 

বকুল অহঙ্কারী 

মানস সরোবরে 

শেওলা রকমারী।।

হালকা জলধারা 

কেড়ে নিতে চায় কাজ 

মন শিকারী বাজ।। 


বরষার কলতান 

কিছু চটুল গান 

হয়ে আসে ক্ষত্রিয়ের 

ক্ষীয়মাণ কৃপাণ।। 

ক্ষয়িষ্ণু দেহে নেই 

বেঁচে থাকার সাজ 

শিরে মরণের তাজ।।


২০১৪ জুলাই ২৮।

খুলনা, বাংলাদেশ।

শনিবার, ১ জুলাই, ২০২৩

আবার আয়না

আবার আয়না।

জীবনের অর্ধেক দুঃখ হল, ভুল মানুষকে বিশ্বাস করা। বাকি অর্ধেক দুঃখ- ঠিক মানুষকে অবিশ্বাস করা। নিজেকে এখন বেশ দুর্বল মনে হয়, সহজে ভেঙ্গে পড়ি। মিথ্যে বলা রপ্ত হয় নি, সত্য গোপন করি।

আয়নার সামনে দাঁড়ালে- সে বলল, আমিও দুর্বল; সামান্য আঘাতেই ভেঙ্গে পড়ি। তবু যে কোনও পরিস্থিতিতে মিথ্যা বলি না, সত্য দেখিয়ে দিই।

‐---------------

02 July 2021 [FB post]